বিনিয়োগ হ্রাস

প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে মার্কিন ইভি খাত

মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) খাতে বিনিয়োগে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) খাতে বিনিয়োগে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে। এতে প্রতিযোগিতায় চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্র আরো পিছিয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিলেন খাতসংশ্লিষ্ট নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞরা। ক্রমবর্ধমান এ ঝুঁকিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি। খবর এফটি।

ইভি ক্রেতাদের জন্য বাইডেন প্রশাসনের দেয়া করছাড় সম্প্রতি তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণসংক্রান্ত নিয়ম বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে, এটিও ইভি খাতের জন্য সহায়ক ছিল।

রোডিয়াম গ্রুপ ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ‘ইউএস ক্লিন ইনভেস্টমেন্ট মনিটর’ ডাটাবেজ অনুযায়ী, ব্যাটারি, সংযোজন ও চার্জিং অবকাঠামোসহ ইভি-সম্পর্কিত বিনিয়োগ চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্ষিক প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে ৮১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের পূর্বপরিকল্পিত ইভি বিনিয়োগও বাতিল হয়েছে।

শিল্প নির্বাহী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইভি খাতে সরকারি সহায়তা কমানোয় প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি। এটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীনা ইভির অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সাল থেকে ইন্টারনাল কম্বাশ্চন ইঞ্জিন (আইসিই) গাড়ি বিক্রির ওপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ তৈরি করবে। এরই মধ্যে নীতি শিথিল করতে ব্রাসেলসকে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের কিছু গাড়ি কোম্পানি।

ভলভো কারসের প্রধান নির্বাহী হকান সামুয়েলসন বলেন, ‘চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে ইভি খাতে উন্নয়ন দ্রুত করতে হবে। নীতিগত দুর্বলতা দেখা দিলে সে প্রক্রিয়া মন্থর হয়ে যাবে।’

নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইভি বিক্রির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট গাড়ি বিক্রির মাত্র ৭ শতাংশ থাকবে ইভির দখলে, যা আগের পূর্বাভাসের প্রায় অর্ধেক। ওই বছর বাজারে হাইব্রিড, আইসিই ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির হিস্যা দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে ২২, ৬৮ ও ৩ শতাংশ। ২০৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বিক্রির মাত্র ১৮ শতাংশ হবে পুরোপুরি ইভি, আগের পূর্বাভাস ছিল ২৫ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ইউরোপ ও চীনে ইভি বিক্রি হতে পারে যথাক্রমে ৪০ ও ৫১ শতাংশ।

ট্রাম্প প্রশাসনের পেট্রল ইঞ্জিনের প্রতি সমর্থন প্রতিষ্ঠিত গাড়ি কোম্পানির মাঝে দ্বিধা তৈরি করেছে। পেট্রলচালিত গাড়ি থেকে বেশি মুনাফা অর্জন করলেও কোম্পানিগুলোর আশঙ্কা ইভি দৌড়ে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।

অ্যালিক্সপার্টনার্সের গ্লোবাল অটোমোটিভ মার্কেট বিভাগের প্রধান মার্ক ওয়েকফিল্ড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর প্রতি নতুন করে মনোযোগ স্বল্পমেয়াদে শিল্পের জন্য খুব ভালো খবর। কারণ এতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সুবিধা আসবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে চীনা কোম্পানিগুলো ইভি খাতে অগ্রসর হতে থাকবে, যা তাদের মূল্যনির্ধারণ, ব্যাটারি প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেবে।’

আরও